প্রকল্পের প্রধান কর্মকাণ্ড

  • জীবিকার বৈচিত্রায়নে স্থানীয় মানুষদের জলবায়ু সহনশীল কৃষি, নানা জাতের গবাদি পশু পালন, মৎস্য চাষ, মৌচাষ, মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ, নার্সারী প্রস্তুত, ভাসমান সবজি চাষ, ফুল চাষ ও বিপনন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হবে। এর ফলে ১০,৫০০ স্থানীয় পরিবার তথা প্রায় ৫০,০০০ জন মানুষ উপকৃত হবে।
  • প্রকল্পের আওতায় ১০টি কিল্লা নির্মাণ /পুকুর খনন: উপকূলীয় এলাকায় দুরযোগের সময় মানুষের আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন সেন্টার থাকলেও গবাদি পশু রক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু গবাদি পশু তাদের অতি প্রয়োজনীয় সম্পদ। তাই দুরযোগের সময় এ সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় মানুষের, বিশেষত নারীদের প্রাণহানি ঘটে। আর এ জন্য গবাদি পশু রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এ প্রকল্প দুরযোগেরকালীন আশ্রয়স্থলের নিকট ১০টি উচু কিল্লা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। কিল্লায় কিছু বনজ-ফলজ গাছের চারা রোপনের পাশাপাশি কিল্লা তৈরির জন্য মাটি সংগ্রহের ফলে সৃষ্ট পুকুরে জলবায়ু সহনশীল মাছের চাষেরও ব্যবস্থা থাকবে। সুতরাং এ কিল্লাসমূহ গবাদি পশু রক্ষার পাশাপাশি বিকল্প আয় সৃষ্টির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ইউএনডিপির সিডিএমপি প্রকল্পে এ ধরনের ১০টি কিল্লার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যা সরকার অনুমোদিত ও কম্যুনাল অ্যাসেট রক্ষায় উপযোগী। এর ফলে ১৫০০০ গবাদি পশুর জীবন রক্ষা পাবে বলে আশা করা যায়।
  • ফিস-ফ্রট-ফরেস্ট (থ্রিএফ) মডেল: থ্রিএফ মডেল হলো উপকূলীয় ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের জন্য বিকল্প আয় সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি উপায়। থ্রিএফ মডেল হতে একই সাথে নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায় যেমন- মাছ চাষ, ফল উৎপাদন, বনজ বৃক্ষ আহরণ, লবণাক্ততা সহনশীল ধানের চাষ, কবুতর, হাস-মুরগী পালন ইত্যাদি। ইতোমধ্যে ইউএনিডিপি বাংলাদেশের এই মডেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
  • ফরেস্ট প্রোডাক্ট বেনিফিট শেয়ারিং চুক্তি: বাংলাদেশ ফরেস্ট (সংশোধিত) আইন ২০০০ এবং সোশ্যাল ফরেস্ট্রি রুলস ২০০৪ ( যা ২০০৯ ও ২০১১ সালে সংশোধিত হয়েছে) স্থানীয় মানুষের সাথে বন সংশ্লিষ্ট উপকার ভাগাভাগি করার বিষয়ে আইন প্রণয়ন করেছে। এর ফলে বন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও তাদের ক্ষমতায়ন ঘটে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সামাজিক বনায়নে অংশহগ্রহণকারী ১১০,৫৮৯ জনের মধ্যে তাদের উপকারের অংশ হিসেবে প্রায় ২২০৬.৯ মিলিয়ন টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে উপকূলীয় বনের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষদের সাথে কোনো প্রকার উপকার/সুবিধা ভাগাভাগির নজির এদেশে নেই। কিন্তু উপকূলীয় বনের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য উপকূলীয় মানুষদের অংশগ্রহণ ও তাদের ক্ষমতায়ন অত্যন্ত জরুরি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফরেস্ট প্রোডাক্ট বেনিফিট শেয়ারিং চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বন ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন নজির সৃষ্টি হবে এবং উপকূলীয় বন রক্ষায় কিছু বাধা ও চ্যালেঞ্জ দূরীভূত হবে।
  • ফরেস্ট স্টুয়ার্ডশিপ প্লান: এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণে উপকূলীয় বন ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের নিয়ে ৪০ টি ফরেস্ট রিসোর্স প্রটেক্টশন দল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি ফরেস্ট রিসোর্ প্রটেক্টশন দল উপকূলীয় বন ব্যবস্থাপনার কাজ পরিকল্পপনা মাফিক বাস্তবায়েনের স্বার্ একটি করে ফরেস্ট স্টুয়ার্ডশিপ পরিকল্পনা প্রস্তত করা হয়েছে।
  • ভোলার মনপুরা দ্বীপে নিমিত  এলাকায় পানি নিস্কাষনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জলবদ্ধতার কারণে মানুষের ফসল ও আবাসস্থলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড  বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলোর রক্ষানাবেক্ষণের জন্য দীর্মেয়াদী কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য বাস্তবতা বিবেচনা করে প্রকল্প প্রণয়নকালে উক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৫ কি.মি. এলাকায় বাঁধ নির্মাণের/পানি নিস্কাষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে ৫০০০ স্থানীয় মানুষের জীবিকা সংরক্ষিত হবে।
  • উপকূলীয় এলাকায় বন্যা/জোয়ারের সময় লবণ পানি প্রবেশের ফলে অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে ভোগে এবং নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। এই প্রকল্প বিগত বিভিন্ন বন্যার সময় পানির উচ্চতা বিবেচনা করে ১৫০ টি গভীর ও অগভীল নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে করে উপকূলীয় এলাকায় মানুষের সুপেয় পানির সমস্যা অনেকটা হ্রাস পাবে ও উপকূলীয় এলাকার জনগণ এর ‍সুফল ভোগ করবে। এর ফলে ১০০০ স্থানীয় পরিবারে সুপেয় পানির ব্যবস্থা হবে। 

UNDP Around the world

You are at UNDP Bangladesh 
Go to UNDP Global